প্রকাশিত: ১৩/০৩/২০২০ ১১:২৫ পিএম

বাংলানিউজ::
ohi বাংলাদেশের পাশে থেকে রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানের চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছে ভারত। একই সঙ্গে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের বিষয়ে তাদের বিরুদ্ধে যে অসহযোগিতার অভিযোগ উঠেছে তা নাকচ করে দিয়েছে দেশটি।

সম্প্রতি ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে ভারতীয় সরকারি কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলাপকালে ভারত সরকার রোহিঙ্গা ইস্যুতে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করে এমন ব্যাখ্যা দেয়।

ভারত সরকারে দায়িত্বশীল কর্তাব্যক্তিরা জানান, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের কোনো প্রক্রিয়ায় তারা বাধা সৃষ্টি করছে না, বরং আন্তরিক সহযোগিতা করছে।

দেশটির এক কর্মকর্তা বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে ভারত সরকার বাংলাদেশের পাশে নেই এটা মোটেও সত্য নয়। ভারত আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছে। তবে এ সংকট নিরসনে নিরাপদ, সুরক্ষিত ও টেকসই পদ্ধতি দরকার।

অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের (ওআরএফ কার্যালয়ে বাংলাদেশের সাংবাদিক প্রতিনিধি দল) সিনিয়র ফেলো ড. জয়িতা ভট্টাচার্য বলেন, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে মাঠ পর্যায়ের বাস্তবতাকে মানতে হবে এবং আরও অনেক কিছু করতে হবে। এ সংকট নিরসনে প্রচেষ্টা আছে কিন্তু সেগুলো এখনও যথেষ্ট নয়। মিয়ানমারের সঙ্গে সীমান্ত থাকা ভারত রাখাইন রাজ্যে কাজ করছে।

তিনি বলেন, ভারতের উদ্দেশ্য খুব পরিষ্কার এবং রোহিঙ্গা সংকটের একটি স্থায়ী সমাধান পাওয়ার জন্য সব সময় প্রচেষ্টা চলছে।

রোহিঙ্গা সংকটের সমাধানের জন্য স্থায়ী ও টেকসই পরিকল্পনা দরকার বলে মনে করেন ড. জয়িতা ভট্টাচার্য।

ভারতের পররাষ্ট্রসচিব হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা বলেন, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের সংকট ও বাংলাদেশে তার প্রভাবের বিষয়ে ভারত অবস্থান স্পষ্ট করেছে। এ নিয়ে ভারত আগ্রহ দেখিয়ে আসছে। তবুও মাঝে মধ্যে ভুল ধারণা করা হয়।

সম্প্রতি বাংলাদেশ সফরে এসে হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা বলেছিলেন, বাংলাদেশ ও মিয়ানমার উভয়ের প্রকৃত প্রতিবেশী হওয়া একমাত্র দেশ হিসেবে ভারত পরস্পরের কাছে গ্রহণযোগ্য। যে কোনো সমস্যা সমাধানে পূর্ণ সমর্থন দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বাস্তুচ্যুত মানুষদের রাখাইন রাজ্যে তাদের বাড়িতে ফেরানো এবং সম্মানজনক জীবনের ব্যবস্থা করা উচিত।

ওআরএফ কার্যালয়ে বাংলাদেশের সাংবাদিক প্রতিনিধি দলরোহিঙ্গাদের ফেরার বিষয়টি এমনভাবে করতে হবে যাতে তা নিরাপদ, সুরক্ষিত ও স্থায়ী হয়। বাংলাদেশ সরকারের মাধ্যমে কক্সবাজারের শিবিরগুলোতে পাঁচ কিস্তিতে সাহায্য দিয়েছে ভারত ও তারা আরও দিতে প্রস্তুত রয়েছে। পাশাপাশি দেশটি রাখাইন রাজ্যে গৃহায়নসহ আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বিনিয়োগ করছে বলে জানান হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা।

ভারত সরকার বলছে, মানবিক দিক বিবেচনায় বাংলাদেশ প্রায় ১০ লাখ বাস্তুচ্যুত মানুষকে আশ্রয় দিয়েছে। বাংলাদেশের এ ভূমিকা প্রশংসাযোগ্য। হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা বলেন, এ সমস্যা সমাধানের পথে আসলে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। দুই দেশই একই লক্ষে কাজ করছে। এ সমস্যা সমাধানে প্রয়োগিক ও বাস্তববাদী সমাধান খুঁজে বের করতে হবে।

২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর থেকে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অত্যাচারে বাস্তুচ্যুত হয়ে এ পর্যন্ত বাংলাদেশে পালিয়ে আসে সাত লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা। নতুন ও পুরনো মিলে কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফের ৩৪টি ক্যাম্পে এখন বসবাস করছে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা।

পাঠকের মতামত

কক্সবাজারে পোষা বিড়ালকে পিটিয়ে ‘হত্যা’, বিচার চেয়ে থানায় মালিক

নিজের সন্তানের মতো লালন-পালন করা পোষা বিড়ালকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে এক প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে। ...

‘মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনে কাজ করছে যুক্তরাজ্য’

বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের নিরাপদে মর্যাদার সঙ্গে ও স্বেচ্ছায় নিজ দেশে ...

স্ত্রীকে দোতলা থেকে ফেলে দিয়ে নিজেও লাফ, ইনানী থেকে বেঁচে ফেরা মাসুদের বর্ণনা

কক্সবাজারের উখিয়ায় পাটুয়ার টেক সৈকতে কাঠের ‘টুপটুপ রিসোর্টে’ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের হৃদয়বিদারক ঘটনায় একই পরিবারের ছয় ...